ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায়
ডেঙ্গু জ্বর থেকে সুস্থ হওয়ার পর অনেকেরই কিছুদিন শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, ক্ষুধামন্দা কিংবা পেশীতে ব্যথা থাকতে পারে। জ্বর কমে গেলে যে শরীর পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরে যায় এমন নয়। ডেঙ্গুর পর শরীরকে স্বাভাবিক কর্ম ক্ষমতায় ফিরতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হতে পারে। এই সময়ে পর্যাপ্ত তরল পান, পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শুধু কোন একটি খাবার বা ঘরোয়া উপায় ডেঙ্গুর পর দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে দেয় এমন বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই। এই আর্টিকেলে ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায়, কি খাবেন, কতটা বিশ্রাম নেবেন, কখন ব্যায়াম শুরু করবেন এবং কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে এইসব বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
পেজ সূচিপত্র:ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায়
- ডেঙ্গুর পর দুর্বলতা কেন হয়?
- ডেঙ্গুর পর কি ধরনের খাবার খাবেন?
- ডেঙ্গুর পর প্লাটিলেট বাড়ানোর খাবার কি আছে?
- ডেঙ্গুর পর পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করুন
- ডেঙ্গুর পর কোন ফল খাওয়া ভালো?
- পেঁপে পাতার রস কি ডেঙ্গুর চিকিৎসা?
- ডেঙ্গু জ্বরের পর কতদিন বিশ্রাম প্রয়োজন?
- ডেঙ্গুর পর কখন ব্যায়াম শুরু করবেন?
- ডেঙ্গুর পর কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে?
- ডেঙ্গুর পর দৈনন্দিন জীবনযাপন কেমন হবে?
- শেষ কথা: ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায়
ডেঙ্গুর পর দুর্বলতা কেন হয়?
ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণের সময় শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রচুর
শক্তি ব্যয় করতে হয়। জ্বর, ক্ষুধামন্দা, বমি, পানি শূন্যতা এবং খাবার কম
খাওয়ার কারণে শরীরের তরল ও পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। ফলের জ্বর চলে যাওয়ার
পরও রোগের মধ্যে কিছু দিন-
- শারীরিক দুর্বলতা।
- অতিরিক্ত ক্লান্তি।
- মাথা ঘোরা।
- ক্ষুধামন্দা।
- পেশি ও শরীরে ব্যথা।
- স্বাভাবিক কাজ করতে অনীহা।
ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ডেঙ্গুর পর দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য
শরীরকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন।
ডেঙ্গুর পর কি ধরনের খাবার খাবেন?
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার সময় শরীরে প্রয়োজনীয় ক্যালোরি, প্রোটিন, ভিটামিন ও
মিনারেল পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোন নির্দিষ্ট খাবারকে ডেঙ্গুর চিকিৎসা বা
দ্রুত প্লাটিলেট বাড়ানোর ওষুধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সহজে হজম হয় এবং
পুষ্টিকর এমন খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার
শরীরে টিস্যু ও পেশির স্বাভাবিক পুনরুদ্ধারে প্রোটিন প্রয়োজন। খাবারের মধ্যে
রাখতে পারেন-
- সেদ্ধ ডিম।
- মাছ।
- মুরগির মাংস।
- ডাল।
- দুধ বা দই যদি সহ্য হয়।
- অন্যান্য সহজপাচ্য প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার।
কার্বোহাইড্রেটের ভালো উৎস
শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি দিতে ভাত, নরম খিচুড়ি, আলু, ওটস, রুটি বা অন্যান্য
সহজপাচ্য খাবার খাওয়া যেতে পারে। একসঙ্গে অনেক খাবার খেতে সমস্যা হলে অল্প অল্প
করে দিনে কয়েকবার খাবার গ্রহণ করা ভালো।।
আরও পড়ুন:
ফলিক এসিড ট্যাবলেট কোনটা ভালো
ডেঙ্গুর পর প্লাটিলেট বাড়ানোর খাবার কি আছে?
ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমে যেতে পারে। তবে কোন নির্দিষ্ট ফল, জুস বা ঘরোয়া খাবার
দ্রুত প্লাটিলেট বাড়িয়ে দেয় এমন শক্ত প্রমান নেই। শরীর সুস্থ হওয়ার
সঙ্গে সঙ্গে অনেক রোগীর প্লাটিলেটও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তাই
শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কোন নির্দিষ্ট খাবার বা ভেষজ উপাদানের ওপর
নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।
ভিটামিন সি, ফোলেট, আয়রন ও ভিটামিন B12 সমৃদ্ধ সুষম খাবার শরীরে স্বাভাবিক
রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ। তাই পেয়ারা, কমলা, লেবু, শাক-সবজি,
ডাল, ডিম, মাছ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে এসব
খাবার কে ডেঙ্গুর চিকিৎসা বা প্লাটিলেট বাড়ানোর নিশ্চিত উপায় হিসেবে দাবি করা
ঠিক নয়।
ডেঙ্গুর পর পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করুন
ডেঙ্গুর সময় ও পরে পানি শূন্যতা দূর্বলতা বাড়াতে পারে। তাই পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ
করা গুরুত্বপূর্ণ। পানির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী-
- খাবার স্যালাইন (ORS)
- ডাবের পানি।
- পাতলা স্যুপ।
- ডালের পাতলা ঝোল।
- লেবুর পানি।
- অন্যান্য নিরাপদ তরল।
গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত পানি পান করার প্রয়োজন নেই। রোগীর বয়স,
শারীরিক অবস্থা, কিডনি বা হৃদযন্ত্রের সমস্যা আছে কি না এসব বিষয় বিবেচনা
করে তরলের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
ডাবের পানি কি ডেঙ্গু জ্বরের জন্য উপকারী?
ডাবের পানি কিছু তরল ও ইলেকট্রোলাইট সরবরাহ করে। তাই এটি স্বাভাবিক খাদ্য তালিকার
অংশ হিসেবে পান করা যেতে পারে। কিন্তু ডাবের পানি ডেঙ্গু সারানোর ওষুধ নয় এবং
শুধু ডাবের পানির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
ডেঙ্গুর পর কোন ফল খাওয়া ভালো?
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার সময়ে বিভিন্ন ধরনের তাজা ফল খাওয়া যেতে পারে। ফল থেকে
পানি, প্রাকৃতিক শর্করা, ভিটামিন, মিনারেল ও অন্যান্য পুষ্টি পাওয়া যায়।
খেতে পারেন-
- পেয়ারা
- কমলা
- মাল্টা
- কলা
- আপেল
- পেঁপে
- ডালিম
- তরমুজ
- অন্যান্য মৌসুমী ফল
তবে কোন নির্দিষ্ট ফলকে ডেঙ্গু সারানোর বিশেষ খাবার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত
নয়।ফলের জুসের পরিবর্তে সম্ভব হলে পুরো ফল খাওয়া ভালো কারণ এতে খাদ্যআঁশও
পাওয়া যায়।
পেঁপে পাতার রস কি ডেঙ্গুর চিকিৎসা?
ডেঙ্গু হলে পেঁপে পাতার রস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। কিছু গবেষণায় এর সম্ভাব্য
প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হলেও এটি ডেঙ্গুর প্রমাণিত চিকিৎসা নয় এবং চিকিৎসকের
দেওয়া চিকিৎসার বিকল্প নয়। তাই পেঁপে পাতা রস খেয়ে প্লাটিলেট দ্রুত
বাড়বে বা ডেঙ্গু দ্রুত ভালো হয়ে যাবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া ঠিক নয়।
পেঁপে পাতার রস খাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় হলো এর নিরাপত্তা ও সঠিক মাত্রা। ঘরে তৈরি পেঁপে পাতার রসের মান বা ঘনত্ব নির্দিষ্ট থাকে না এবং সবার জন্য এটি উপযুক্ত নাও হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি কিংবা অন্য কোন রোগে আক্রান্ত
ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ভেষজ উপাদান বা ঘরোয়া চিকিৎসা
ব্যবহার না করায় নিরাপদ।
ডেঙ্গু জ্বরের পর কতদিন বিশ্রাম প্রয়োজন?
ডেঙ্গুর পর দুর্বলতা থাকলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে
সবার জন্য একই সংখ্যক দিন সম্পূর্ণ বেড রেস্ট প্রয়োজন এমন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই।
জ্বর চলে যাওয়ার পরও যদি শরীর দুর্বল থাকে তাহলে ভারী কাজ, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে
থাকা এবং অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন। শরীরে শক্তি ধীরে ধীরে
ফিরলে দৈনন্দিন কাজও ধীরে ধীরে বাড়াতে পারেন।
ঘুমের গুরুত্ব
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত পর্যাপ্ত রাতের ঘুম প্রয়োজন। অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার
সময় শরীর বেশি ক্লান্ত থাকলে দিনের মধ্যে অতিরিক্ত বিশ্রামের প্রয়োজন হতে
পারে।। ঘুমানোর সময়-
- নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
- রাতে অতিরিক্ত মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার কমান।
- শান্ত আরামদায়ক পরিবেশে ঘুমান।
- শরীর ক্লান্ত লাগলে বিশ্রাম নিন।
ডেঙ্গুর পর কখন ব্যায়াম শুরু করবেন?
ডেঙ্গুর পর শরীর দুর্বল থাকলে সঙ্গে সঙ্গে জিম, দৌড় বা ভারী ব্যায়াম শুরু করা
উচিত নয়। প্রথমে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে শরীরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন।
দুর্বলতা কমে গেলে এবং স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যা না হলে ধীরে ধীরে
হালকা হাঁটাচলা শুরু করা যেতে পারে। যেমন-
- ঘরের মধ্যে ধীরে হাঁটা।
- অল্প সময়ের হালকা হাঁটা।
- সহজ স্ট্রেচিং।
ব্যায়াম করার সময় মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অন্য কোন
অস্বাভাবিক উপসর্গ হলে সঙ্গে সঙ্গে থেমে বিশ্রাম নিতে হবে। ভারী ব্যায়াম বা কঠোর
শারীরিক পরিশ্রম শুরু করার আগে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডেঙ্গুর পর কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে?
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জ্বর কমে যাওয়ার পরও গুরুতর
জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর চলে গেছে বলেই রোগী সম্পন্ন ঝুঁকি মক্ত এমনটি
মনে করা ঠিক নয়। নিচের যে কোন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে
হবে-
- তীব্র পেটব্যথা
- বারবার বমি
- নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত
- রক্তবমি
- কালো বা রক্ত মিশ্রিত পায়খানা
- দ্রুত বা কষ্ট করে শ্বাস নেওয়া
- অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা অস্থিরতা
- খুব বেশি তৃষ্ণা
- ত্বক ফ্যাকাসে বা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
- অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব বা আচরণে পরিবর্তন
বিশেষ করে রক্তপাত বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে
হাসপাতালে যেতে হবে।
আরও পড়ুন:
পড়াশোনার পাশাপাশি ফিট থাকার উপায়
ডেঙ্গুর পর কোন ওষুধে সতর্ক থাকতে হবে?
ডেঙ্গুর সময় বা পরবর্তী সময়ে নিজের ইচ্ছায় ব্যাথার ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
বিশেষ করে aspirin এবং ibuprofen এর মতো NSAID ওষুধ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে
পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। জ্বর বা
ব্যথার ক্ষেত্রে কোন ওষুধ কত মাত্রায় গ্রহণ করা নিরাপদ তা রোগীর বয়স ও শারীরিক
অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
ডেঙ্গুর পর দৈনন্দিন জীবনযাপন কেমন হবে?
ডেঙ্গুর পর দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য জীবন যাত্রায় কিছু সহজ পরিবর্তন করা যেতে
পারে।
দৈনন্দিন করণীয়
- পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন।
- নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খান।
- পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করুন।
- অল্প অল্প করে কয়েকবার খাবার খান।
- শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফিরুন।
- অতিরিক্ত পরিশ্রম ও ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।
- প্রয়োজন মনে করলে নির্ধারিত রক্ত পরীক্ষা করান।
- নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথার ওষুধ খাবেন না।
ডেঙ্গুর পর একদিনের সহজ খাবার তালিকা
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়ার সময় একটি সাধারণ দিনের খাবার এমন হতে পারে-
সকালে: ওটস/নরম রুটি,সেদ্ধ ডিম,একটি ফল।
সকাল ও দুপুরের মাঝামাঝি: পানি বা প্রয়োজন অনুযায়ী ORS, ফল।
দুপুরে: নরম ভাত, মাছ বা মুরগি, ডাল, সবজি।
বিকেলে: ডাবের পানি বা হালকা তরল, ফল।
রাতে: নরম ভাত বা খিচুড়ি, ডিম বা মাছ বা মুরগি, সবজি।
তবে এটি কোন নির্দিষ্ট রোগের জন্য চিকিৎসা নির্ধারিত ডায়েট নয়। ডায়াবেটিস,
কিডনি রোগ, হৃদরোগ বা অন্য কোন দীর্ঘ মেয়াদী অসুস্থতা থাকলে ব্যক্তিগত খাদ্য
তালিকার জন্য চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শেষ কথা: ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায়
ডেঙ্গু জ্বরের পর শারীরিক দুর্বলতা অনেকের ক্ষেত্রে কিছুদিন থাকতে পারে। তাই জ্বর
কমে যাওয়ার পরপরই স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততায় ফিরে না গিয়ে শরীরকে পর্যাপ্ত সময়
দেওয়া প্রয়োজন। ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার পর শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর উপায় হিসেবে
সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সুষম ও সহজপাচ্য খাবার,
পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে আসা।
কোন একটি ফল, পেঁপে পাতার রস বা ঘরোয়া উপায় কে ডেঙ্গুর নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে
বিবেচনা করা উচিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শরীরের সতর্ক সংকেত গুলো খেয়াল
রাখা। জ্বর কমে যাওয়ার পরও তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট বা
অতিরিক্ত দুর্বলতার মত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরী।
সর্তকতা:
এই আর্টিকেলটি সাধারণ তথ্যের জন্য। ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা, ওষুধ, পরীক্ষা ও খাদ্য
তালিকা রোগের বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং জটিলতার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই
চিকিৎসকের পরামর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন।

লার্ন উইথ নুসরাতের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url